মানুষ একা—তবে বিস্তীর্ণ বনভূমিতে মাটি আঁকড়ে থাকা প্রতিটি বৃক্ষের মতো একা। বৃক্ষ যেমন মাটিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকে, ঠিক তেমনি মানুষও বেঁচে থাকতে পারে আঁকড়ে ধরে তার পরিবার ও আশপাশের সম্পর্ককে। মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো গাছ যেমন দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না, তেমনি পরিবার ও সম্পর্ক বিমুখ মানুষও এই পৃথিবীতে সত্যিকার অর্থে টিকে থাকতে পারে না। শত বছর পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থেকেও একটি গাছ তার পাশের গাছের বেঁচে থাকার রস আহরণ না করলেও তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকাই এক বিশেষ প্রাকৃতিক শক্তি; তেমনি খুব কাছের মানুষও সবসময় আমার বেঁচে থাকার প্রত্যক্ষ সহায়ক না হলেও তার অস্তিত্বই হয়ে ওঠে এক বিশাল শক্তি ও গভীর অনুপ্রেরণার। মাটিরস্পর্শহীন গাছ যেমন মৃত, ঠিক তেমনি সম্পর্কহীন মানুষও একপ্রকার মৃত। তাই সম্পর্কের গুরুত্ব অসীম। আপনি জানেন নিশ্চয়ই, অন্য গাছকে আঁকড়ে বাঁচতে চাওয়া গাছ খুব বেশিদিন টিকে থাকতে পারে না। অন্যের উপর ভর করে গড়ে ওঠা কোনো স্বত্ববোধই দীর্ঘস্থায়ী হয় না—পরগাছাই তার প্রমাণ।
”আমি একা” এই অভিমানে কি বৃক্ষ কখনো কাউকে ছেড়ে চলে যায়? না, যায় না। কারণ এতে সে নিজেই মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের অস্তিত্ব হারাবে। মানুষের কিছু সঙ্গ বা উপকার হয়তো চোখে দেখা যায় না, কিন্তু অন্তর দৃষ্টিতে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কালের বিবর্তনে মানুষের মনে কাউকে পাশে না পাওয়ার যে কঠিন অভিমানের দেয়াল তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে না পারলে, পারিবার ও সম্পর্কের গুরুত্ব অনুভব করতে না পারলে—আমরাও নিশ্চিত কোনদিন মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন গাছের মতোই অস্তিত্বহীন হয়ে যাবো।
পার্থক্য শুধু এই—বিবেচনাবোধহীন বৃক্ষ আমৃত্যু পাশাপাশি দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেও, বিবেচনাবোধসম্পন্ন মানুষ হয়েও আমরা কিন্তু পারি না!
কাজিমুল ইসলাম
এডভোকেট
জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল
মোবাইল- 01760848419