যৌতুক মামলা | স্বপ্না আক্তার বনাম মোঃ জুয়েল মিয়া | জামিন না-মঞ্জুর
যৌতুক মামলা | স্বপ্না আক্তার বনাম মোঃ জুয়েল মিয়া | জামিন না-মঞ্জুর
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- বাদীর অভিযোগ : আসামী আমার স্বামী। আসামীর সহিত আমার বিগত ইং ১১/০৫/২০০৯ তারিখে ইসলামী শরিয়তের বিধান মতে ৯৯,৯৯৯/-(নিরানব্বই হাজার নয়শত নিরানব্বই) টাকা দেনমোহরানা ধার্য্যে রেজিষ্ট্রী কাবিন মুলে বিবাহ হয়। বিবাহের সময় আমার পিতা-মাতা আমাকে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী সামগ্রী ও মূল্যবান কাপড় চোপড় দিয়া সাজাইয়া আসামীর সহিত বিবাহ দেয়। বিবাহের পর আমি আমার স্বামীর সহিত স্বামীর বসত বাড়িতে দাম্পত্ব স্বত্ব পালনসহ ঘর সংসার করিতে থাকাবস্থায় বিবাহের কিছুদিন পর হইতেই আমার স্বামী বিদেশ যাওয়ার জন্য আমার নিকট বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবী করিয়া মাঝে মধ্যেই আমাকে শারীরিক ও মানষিক ভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করিতো। এমতবস্থায় আমি নিরুপায় হইয়া আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটু সুখের আশায় আমি আমার সংসার টিকিয়ে রাখিবার জন্য স্বামীর অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করিয়া সংসার করিতে থাকি। অতঃপর বিগত ইং ০৭/০৯/২০১৭ তারিখে অর্থাৎ ঘটনার ১ম স্থান ও সময়ে আমি, আসামী মোঃ জুয়েল মিয়া-কে সকালের খাবার দিলে আসামী আমার পিতার নিকট হইতে যৌতুক বাবদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা বিদেশ যাওয়ার জন্য আনিয়া দিতে বলিলে আমি উক্ত যৌতুকের টাকা আনিয়া দিতে অস্বীকার করায় আসামী আমাকে চর থাপ্পর মারিয়া ঘটনার ১ম স্থান হইতে চুলের মুঠি ধরিয়া টানা হেঁচড়া করিয়া আসামীর বাড়ি হইতে গর্ভাবস্থায় এক কাপড়ে আমাকে তাড়াইয়া দিয়া বলে যে, তুই যদি তোর পিতা-মাতার নিকট হইতে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা যৌতুক আনিয়া আমাকে দিতে না পারিস তাহলে আমি তোকে তালাক দিয়া অন্যত্র বহু টাকা যৌতুক লইয়া ২য় বিবাহ করিব। তখন হইতে আমি যৌতুকের শিকার হইয়া আমার পিতা-মাতার বাড়ীতে অসহায়ত্যের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করিতে থাকাবস্থায় ঘটনার ২য় তারিখ অর্থাৎ বিগত ইং ২০/১০/২০২৩ তারিখে ঘটনার ২য় স্থান ও সময়ে আমার পিতা-মাতা কতক সাক্ষীগনের উপস্থিতিতে ঘরোয়া সালিসের আয়োজন করিলে এবং দুটি সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করিয়া আসামীকে যৌতুক বিহীন আমাকে নিতে অনুরোধ করিলে আসামী আমাকে উক্ত ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা যৌতুক ছাড়া নিবেনা বলিয়া আমার পিতা-মাতাকে গালি গালাজ পারিয়া ঘটনার ২য় স্থান হইতে চলিয়া যায়। অতঃপর আমি আমার নাবালক সন্তান লইয়া অত্যন্ত নিরুপায় হইয়া কোন উপায়ান্তর না পাইয়া হুজুর আদালতে অত্র মোকদ্দমা দায়ের করিলাম। ঘটনার বহু সাক্ষী আছে। সাক্ষীগণ বিচারামলে ঘটনা প্রমাণ করিবে।
- আসামীর বক্তব্য : আসামী তাহার আইনজীবীর মাধ্যমে দরখাস্তমূলে নিজেকে নির্দোষ দাবী করিয়া বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ পূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আদেশ
- বাদী পক্ষে আমি এডভোকেট নিয়োজিত হইয়া আমার মক্কেল স্বপ্না আক্তার এর অমানবিক নির্যাতন ও আসামীর যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন পূর্বক বুঝাতে সক্ষম হই। বিজ্ঞ আদালত জামিন না-মঞ্জুর করিয়া আসামীকে CW মূলে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
মক্কেলের রিভিউ
- আলহামদুলিল্লাহ বিচার পেলাম। আমি উকিল সাহেবের আচরণ ও কাজে খুব খুশি। উকিল সাহেবের যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে, তা হলো তিনি আমার মামলাটা খুব গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করেছেন। আমি লক্ষ্য করেছি শুনানীর আগে তিনি আমার মামলা বিষয়ে প্রচুর প্রস্তুতি নিয়েছেন। আমি অবশ্যই যেকোন আইনি সহযোগীতায় আমার নিকট আত্নীয় ও বন্ধুদের তার নিকট আসতে পরামর্শ দেব।
আইনজীবীর মন্তব্য
- যৌতুক চাওয়া একটি গুরুতর অপরাধ। যথাযথ প্রমান ও আইনজীবীর প্রস্তুতিহীন শুনানীর কারনে বাদীর ন্যায় বিচার পাওয়া অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে। আমার প্রতি আমার মক্কেলের আস্থা ও আমার চেষ্টায় বাদীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।
— এডভোকেট কাজিমুল ইসলাম, জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল। মোবাইল : 01760-848419
মামলার সারসংক্ষেপ
মামলার ধরণ যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারার মামলা
মক্কেলের নাম বাদী স্বপ্না আক্তার
ঠিকানা থানা : মির্জাপুর, জেলা : টাঙ্গাইল
তারিখ ০৬/ ০২/২০২৪ ইং
error: Content is protected !!