যৌতুক মামলা | মোঃ নজরুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র | আসামী খালাস
যৌতুক মামলা | মোঃ নজরুল ইসলাম বনাম রাষ্ট্র | আসামী খালাস
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- বাদীর অভিযোগ : অত্র আপীল মামলার রেস্পনডেন্ট বাদী আমার মক্কেলকে আসামী করিয়া বিগত ২৩/০৩/১৯৯৮ইং তারিখে তৎকালীন টাঙ্গাইলের “ঘ” অঞ্চলের ১ম শ্রেনীর ম্যাজিস্ট্রেট এর আদালতে উপস্থিত হইয়া অভিযোগ করেন যে, দরখাস্তকারী প্রার্থী আসামী তাহার স্বামী। বিগত ২২/০৭/১৯৯৪ ইং তারিখে মুসলিম শরিয়তের বিধান মোতাবেক ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা দেনমোহর ধার্য্যে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে তাহাদের বিবাহ হয়। বিবাহের সময় দরখাস্তকারী প্রার্থী আসামী রেস্পনডেন্ট পক্ষের পিতার নিকট ২০,০০০/-(বিশ হাজার) টাকা যৌতুক দাবি করেন। তখন তাহার পিতা আসামীকে যৌতুক না দিলে বিবাহ করিতে অস্বীকার করায় বিবাহ সভার উপস্থিত মাতাব্বর এবং আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যস্থতায় ১০,০০০/-(দশ হাজার) টাকা যৌতুক প্রদান করিয়া বিবাহ পড়াইয়া দেওয়া হয়। অতঃপর শ্বশুর বাড়ীতে স্বামীর সহিত সুখে-শান্তিতে দাম্পত্ব-স্বত্ত্ব পালন করিতে থাকিলে দরখাস্তকারী প্রার্থী আসামীর ঔরষে এবং রেস্পনডেন্ট পক্ষের গর্ভে এক কন্যা সন্তান জন্মগ্রহন করিয়া জীবিত আছে। বিবাহের কিছুদিন পর হইতেই দরখাস্তকারী প্রার্থী আসামী তাহার পিতা, চাচা ও ভাই-দের কু-পরামর্শে স্ত্রীর পিতার নিকট হইতে অবশিষ্ট ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা যৌতুক আনার জন্য চাপ সৃষ্টি করিতে থাকে। অতঃপর ঘটনার ১ম তারিখ ও সময়ে বিগত ১১/০৭/১৯৯৭ ইং তারিখ রোজ: বৃহস্পতিবার সকাল অনুমান ১০.০০ ঘটিকার সময় দরখাস্তকারী প্রার্থী আসামী তাহার পিতা, চাচা ও ভাই-দের কু-পরামর্শে স্ত্রীকে উক্ত ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা যৌতুক আনার কথা বলিলে এবং রেস্পনডেন্ট পক্ষ টাকা আনতে অস্বীকার করিলে দরখাস্তকারী প্রার্থী আসামী তাহাকে মাইরপিট করিয়া সন্তানসহ পিতার বাড়ীতে পাঠাইয়া দেয়। তৎপর ঘটনার ২য় তারিখ ও সময়ে অর্থাৎ বিগত ২০/০৩/১৯৯৮ইং রোজ: শুক্রবার বিকাল অনুমান ৪.০০ ঘটিকার সময় রেস্পনডেন্ট পক্ষের পিতার বাড়ীতে এক শালিস অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত শালিসিতে দরখাস্তকারী প্রার্থী আসামী বলে উক্ত ১০,০০০/-(দশ হাজার) টাকা যৌতুক দিলে স্ত্রীকে নিবে অন্যথায় তাহাকে তালাক প্রদান করিয়া অন্যত্র বেশী টাকা যৌতুক নিয়া দ্বিতীয় বিবাহ করিবে।
- আসামীর বক্তব্য : মামলার ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা। অত্র মামলার বাদী ও আমি স্থানীয় মাতাব্বর এবং আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যস্থতায় আপোষ-মিমাংসা করি। অতঃপর বাদী ও আমি আইন ও আদালত সম্পর্কে অজ্ঞতার দরুণ ভাবি যে, অত্র মোকদ্দমাটি শেষ হইয়া গিয়াছে আমার আর আদালতে উপস্থিত হইবার প্রয়োজন নাই। কিন্তু পরবর্তীতে ধনবাড়ী থানা পুলিশ আদালতের নির্দেশে আমাকে গ্রেফতার করতে গেলে আমি জানতে পারি যে, আমার ২ বৎসরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫,০০০/- (পাঁচ হাজার) টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড হয়েছে।
আইনি অবস্থান ও যুক্তি
- যেহেতু বিচারিক আদালতের ০৪/০৭/২০০০ইং তারিখের রায় ও আদেশ আইনত ঘটনা ও আইনের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
- যেহেতু বিজ্ঞ নিন্ম আদালত আইন ও ঘটনা সম্পর্কে ভ্রমে পতিত হইয়া আপীল্যান্ট আসামীকে সাজা প্রদান করিয়াছেন।
- যেহেতু এই মামলার নিরপেক্ষ কোন স্বাক্ষী নাই এমনকি উপস্থিত স্বাক্ষীদের স্বাক্ষ্য দ্বারা অভিযোগ আদৌ প্রমানিত হয় নাই।
- যেহেতু বাদীর আনিত অভিযোগ বাদীর স্বাক্ষ্য দ্বারা প্রমান বিহীন ভাবে সাজা প্রদান আইন সংগত হয় নাই।
- যেহেতু স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য দ্বারা ঘটনার স্থান, সময়, প্রকৃতি ও উদ্দেশ্য প্রমানে বাদীপক্ষ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হইয়াছেন।
- যেহেতু বাদীর অভিযোগ সত্য নহে; অভিযোগটি উদ্দেশ্য প্রনোদিত, অস্পষ্ট, ভিত্তিহীন ও পরস্পর বিরোধী বটে।
- যেহেতু বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক যথাযথ ভাবে ফৌ কাঃ বিঃ আইনের ৩৪২ ধারা মতে আপীল্যান্ট আসামীকে পরীক্ষা করানো হয় নাই।
- যেহেতু বিজ্ঞ বিচারিক আদালতে বাদীসহ ৮ জন স্বাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন করা হইয়াছে অপর ৪ জন স্বাক্ষী কেন আদালতে হাজির করা হয় নাই তাহার ব্যাখ্যা অত্র মামলায় রায় ও আদেশে সুষ্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় নাই।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আদেশ
- বিজ্ঞ আপীল আদালত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক আপীল্যান্ট আসামীর নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবীর যুক্তি ও আইনগত উপস্থাপনে সন্তুষ্ট হয়ে দীর্ঘদিন এর তামাদি তথা বিলম্ব মওকুফ করে আপীল্যান্ট আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
মক্কেলের রিভিউ
- আলহামদুলিল্লাহ খালাস পেলাম। আমি যেখানে জামিন পাওয়ার আশাই হারিয়ে ফেলেছিলাম, সেখানে খালাস পেয়ে জেল হতে বের হলাম। কেননা আমার মূল মামলাটি ছিল অনেক পুরাতন ১৯৯৮ সালের, তখন বিচারবিভাগ আলাদা হওয়ার আগে বিধায় আমার মামলার নথি পাওয়া যাচ্ছিল না। আমার পরিবারের লোকজন অনেক আইনজীবীর নিকট গিয়েছে কিন্তু কোন সমাধান হয় নি। অবশেষে এড. কাজিমুল স্যার আমাকে শুধু জামিন না খালাস করতে সক্ষম হয়েছে। আমি উকিল সাহেবের আচরণ ও কাজে খুব খুশি। উকিল সাহেবের যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে, তা হলো তিনি আমার মামলাটা খুব গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করেছেন। আমি অবশ্যই যেকোন আইনি সহযোগীতায় আবার তার নিকট আসবো এবং নিকট আত্নীয় ও বন্ধুদের তার নিকট আসতে পরামর্শ দেব।
আইনজীবীর মন্তব্য
- যৌতুক চাওয়া একটি গুরুতর অপরাধ হলেও প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সংবিধান ও বিচারনীতির পরিপন্থী। আমি এই নীতির আলোকে আসামীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।
— এডভোকেট কাজিমুল ইসলাম, জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল। মোবাইল : 01760-848419
মামলার সারসংক্ষেপ
মামলার ধরণ যৌতুক নিরোধ আইনের ৪ ধারার মামলা
মক্কেলের নাম আপীল্যান্ট আসামী মোঃ নজরুল ইসলাম
ঠিকানা থানা : ধনবাড়ী, জেলা : টাঙ্গাইল
তারিখ ২০/০৯/২০১৭ ইং
error: Content is protected !!