ফৌজদারী যৌতুকের মামলা | অনুপমা বনাম রাশেদ | আসামী খালাস
ফৌজদারী যৌতুকের মামলা | অনুপমা বনাম রাশেদ | আসামী খালাস
- বাদীর অভিযোগ : আমি একজন গ্রামের সহজ সরল, নিরীহ, আইনমান্যকারী মহিলা লোক বটে। অপরপক্ষে আসামী আমার স্বামী। আসামীর সাথে বিগত ২৭/০৯/২০২৩ ইং তারিখে উভয়পক্ষের আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ইসলামী শরা-শরীয়তের বিধান মতে ২,৫০,০০০/- (দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা দেনমোহর ধার্যে রেজিস্ট্রি কাবিনমূলে বিবাহ সম্পন্ন হয়। আমার বিবাহের সময় আমার অভিভাবক আমার পিতা আমাকে সাজিয়ে দেওয়ার জন্য নগদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা, গলায় ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের হাড়, ৮ আনি ওজনের কানের ঝুমকা, হাতে ১ ভরি ওজনের ২টি বালা, মূল্য অনুমান ২,৪৫,০০০/- (দুই লক্ষ তাল্লিশ হাজার) টাকা, ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকার দামী কাপড়-চোপড়, প্রসাধনী সামগ্রী দিয়া সাজাইয়া দেওয়ার পর আসামী আমাকে তাহার বাড়ীতে তুলিয়া নেয়। আমি উক্ত আসামীর সহিত স্বামী-স্ত্রী হিসাবে ঘর-সংসার ও দাম্পত্য স্বত্ব পালন করি এবং ইহাতে আমাদের বিবাহটি কনজুমেটেড হয়। পরবর্তীতে আসামী বিদেশ যাইবে বলিয়া আমার পিতার নিকট হইতে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা যৌতুক আনিয়া দিতে বলে। আমি অস্বীকার করিলে এবং অপারগতা প্রকাশ করিলে আসামী আমাকে মাইরপিট ও মানসিকভাবে নির্যাতন করিয়া আসিতে থাকে। আমি আমার ভবিষ্যতের সংসারের কথা চিন্তা-ভাবনা করিয়া আসামীর সকল জুলুম অত্যাচার নিরবে সহ্য করিয়া আসিতে থাকি। ঘটনার ১ম তারিখ, সময় ও স্থানে আসামী আমাকে আমার পিতার নিকট হইতে ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা যৌতুক আনিয়া দিতে বলিলে আমি অস্বীকার করিলে আসামী আমার পড়নের গহণাপত্র খুলিয়া রাখিয়া এককাপড়ে আমাকে আমার পিতার বাড়ীতে পাঠাইয়া দেয়। তৎপর ঘটনার ২য় তারিখ, সময় ও স্থানে আমার নানীর বাড়ীতে আসামীকে দাওয়াত দিয়া আনিলে দাওয়াত খাওয়ার পর আমার কতক মানিত সাক্ষীগণ সহ ও গণ্যমান্য কতিপয় লোকদেরকে ডাকিলে আসামী তাহাদের উপস্থিতিতে আমার পিতার নিকট ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা যৌতুক চায়। তখন আমার পিতা ও মানিত সাক্ষীগণ আমাকে বিনা যৌতুকে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করিলে আসামী আমার পিতা এবং আমার মানিত সাক্ষীগণের অনুরোধ উপেক্ষা করিয়া চলিয়া যায় এবং যাওয়ার সময় আসামী বলিয়া যায় যে, ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা যৌতুক ছাড়া আসামী আমাকে নিবে না ও আমার সহিত ঘর-সংসার করিবে না। এমনকি হুমকি দেয় যে অন্যত্র বেশী টাকা যৌতুক লইয়া বিবাহ করিবে। আসামীর এহেন কার্যতায় আমি আমার পিতার বাড়ীতে অতিকষ্টে মানবেতর জীবন-যাপন করিতেছে। ঘটনার অনেক সাক্ষী আছে। সাক্ষীগণ বিচারামলে ঘটনা প্রমাণ করিবে। আসামী আমার স্বামী বিধায় আপোষ-মিমাংসা করিয়া আমাকে নিয়া ঘর-সংসার করিবে এই আশায় থাকিয়া মামলা দায়ের করিতে বিলম্ব হইল।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আদেশ
- বিজ্ঞ আদালত মামলার আরজি, সাক্ষ্য প্রমান ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক আসামীর নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবী হিসাবে আমার যুক্তি ও আইনগত উপস্থাপনে সন্তুষ্ট হয়ে আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
মক্কেলের রিভিউ
- খালাস পেলাম। আমি উকিল সাহেবের আচরণ ও কাজে খুব খুশি। উকিল সাহেবের যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে, তা হলো তিনি মামলার তারিখে কখনো অতিরিক্ত ফি দাবি করেন নি। ফি চেয়ে কখনো চাপ দিতেন না। আমি অবশ্যই যেকোন আইনি সহযোগীতায় আবার তার নিকট আসবো এবং নিকট আত্নীয়দের তার নিকট আসতে পরামর্শ দেব।
আইনজীবীর মন্তব্য
- যৌতুক দেওয়া ও নেওয়া একটি গুরুতর ফৌজদারী অপরাধ। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সংবিধান ও বিচারনীতির পরিপন্থী। আল্লাহর রহমত, মক্কেলের আস্থা ও আমার চেষ্টায় আসামীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।
— এডভোকেট কাজিমুল ইসলাম, জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল। মোবাইল : 01760-848419
মামলার সারসংক্ষেপ
মামলার ধরণ যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারার মামলা
মক্কেলের নাম আসামী জয় আহম্মেদ রাশেদ
ঠিকানা থানা : মির্জাপুর, জেলা : টাঙ্গাইল
তারিখ ০৮/০৭/২০২৬ ইং
error: Content is protected !!