ফৌজদারী মারামারি মামলা | রাষ্ট্র বনাম জুলহাস মিয়া | জামিন মঞ্জুর
ফৌজদারী মারামারি মামলা | রাষ্ট্র বনাম জুলহাস মিয়া | জামিন মঞ্জুর
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- বাদীর অভিযোগ : আমি আমেনা বেগম (৬৫), থানা- মির্জাপুর, জেলা টাঙ্গাইল থানায় হাজির হইয়া বিবাদী-১। জুলহাস মিয়া (৫৫), পিতা- অজ্ঞাত, ২। তমেজ মিয়া (৫০), পিতা- মৃত। মহব্বত আলী, ৩। ইয়াছিন মিয়া (২৫), পিতা- তমেজ মিয়া, ৪। রুবেল মিয়া (২৪), পিতা- মৃত: রুমেজ মিয়া, ৫। খুইসা মিয়া (৬৮), পিতা- মৃত: হাছেন মিয়া, ৬। লিটন মিয়া (৩৫), পিতা- খুইস। মিয়া, ৭। লাল চাঁন (৩৬), পিতা- লাল মিয়া, ৮। শফিকুল মিয়া (৩৪), পিতা- মৃত: পিয়ার আলী,১৯ মোছাঃ বানেছা বেগম (৪৫), স্বামী- তমেজ মিয়া, সর্ব থানা- মির্জাপুর জেলা- টাঙ্গাইল গণের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, বিবাদীরা আমার প্রতিবেশী হয়। জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়া বিবাদীদের সহিত আমাদের দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলিয়া আসিতেছে। উক্ত বিরোধের জের ধরিয়া বিবাদীরা আমাকে ও আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মারপিট সহ ক্ষয় ক্ষতি সাধনের অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ইং-১৫/১১/২০১৪ তারিখ সকাল অনুমান ০৮.০০ ঘটিকার সময় উল্লেখিত বিবাদীরা বেআইনী জনতাবদ্ধে হাতে দা সাবল ও লাঠিশোঠা নিয়া আমাদের বসতবাড়ীতে অনাধিকারে প্রবেশ করিয়া বসতবাড়ীর উঠানের মধ্যে অন্যায় ভাবে ঘর নির্মানের প্রস্তুতি নেয়। আমি বাধা নিষেধ করিলে সকল বিবাদী তাদের হাতে থাকা লাঠিশোটা দিয়ে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথারী বাইরাইয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলা ফুলা জখম করে। আমার ডাকচিৎকারে আমার ছোট ছেলের বউ-জেসমিন বেগম (২৭) আগাইয়া আসিলে ২নং বিবাদীয় হুকুমে ১নং বিবাদী তাহার হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়া আমার ছেলের বউ-জেসমিন। বেগম (২৭) কে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করিয়া বারি মারিলে উক্ত বারি আমায় ছেলের বউ বাস হাত দিয়া ফিরাইতে গেলে আমার ছেলের বউয়ের বাম হাতে লাগিয়া গুরুত্বর হাড়ভাঙ্গা জখম হয় আমার বড় ছেলের বউ- লিজা বেগম (২৯) ফিরাইতে আসিলে ৮নং ও ৯নং আমার ছেলের বউ লিজা বেগম (২৯) এর শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি ও লাথি মারিয়া নীলা গুলা জখম করে মারপিটের এক পর্যায়ে সকল বিবাদীরা তাদের হাতে থাকা দা, সাবল ও লাঠিশোঠা দিয়ে আমান বসতঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করিয়া অনুমান ২৫,০০০/- (পঁচিশ হাজার) টাকার ক্ষতি সাধন করে আমাদের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে বিবাদীরা প্রকাশ্যে হুমলী প্রদান করে যে, আজকের মত প্রানে বেঁচে গেলি সময় সুযোগ মত পাইলে খুন করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলিব। বিবাদীদের মারপিটের ফলে আমি, আমার বড় ও ছোট ছেলের বউ জখম প্রাপ্ত হইলে প্রতিবেশীদের সহায়তায় আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জামুর্কী যাইয়া চিকিৎসা গ্রহন করি।
আইনি অবস্থান ও যুক্তি
- যেহেতু দরখাস্তকারী আসামী সম্পূর্ণ নির্দোষ নিরোপরাধী ব্যক্তি বটে। অযথা হয়রানী পেরেষাণী করার অসৎ উদ্দেশ্যে অত্র মামলায় জড়িত করিয়াছে।
- যেহেতু আরজীতে উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে দরখাস্তকারী আসামী কোন ঘটনা ঘটায় নাই।
- যেহেতু দরখাস্তকারী আসামী প্রকৃতপক্ষে প্রায় ৬০ বৎসর বয়সী বৃদ্ধ লোক বটে।
- যেহেতু দরখাস্তকারী আসামী দীর্ঘদিন যাবৎ হার্টের অসুখসহ বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হইয়া বর্তমানে নিয়মিত ওষুধ সেবন করিতে হয়। ইতিপূর্বে তিনি হার্টের অসুখের জন্য অস্ত্রোপাচার করিয়া হার্টে রিং পড়িয়েছেন।
- যেহেতু দরখাস্তকারী আসামীর বসতবাড়ী ঘটনাস্থল থেকে ৩ কিঃ মিঃ বেশী দূরে অবস্থিত।
- যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামীর বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্য আর কোন মামলা মোকদ্দমা নাই।
- যেহেতু দরখাস্তকারী আসামী ও বাদী পরস্পর শরীক নহে বিধায় তাহাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ এর কোন কারন নাই। দরখাস্তকারী আসামী অত্র মামলার ২নং আসামীর নিকট আত্মীয় হওয়ার কারনেই বাদী অত্র মিথ্যা মামলায় জড়িত করিয়াছেন বটে।
- যেহেতু অত্র মামলার ঘটনারও ২ মাস ৭ দিন পর এজাহারকারী বাদী কথিত ভিকটিম জেসমিন বেগম এর অসাবধানতার কারনে দূর্ঘটনাবশত জখমকে পুঁজি করিয়া ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যা বর্ননায় অত্র মিথ্যা মামলাটি আনয়ন করিয়াছেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আদেশ
- বিজ্ঞ আদালত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক আসামীর নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে আমার যুক্তি ও আইনগত উপস্থাপনে সন্তুষ্ট হয়ে দরখাস্তকারী আসামীর জামিন মঞ্জুর করেন।
মক্কেলের রিভিউ
- অবশেষে জামিন পেলাম। আমি একাধিক আইনজীবীর নিকট গিয়েছি, কেউ জামিনের গ্যারান্টি দেয় নি। সবাই বলেছে, আপনি ১নং আসামী জামিন হবে না। কিন্তু আপনি আমাকে অত্যন্ত বিচক্ষনতার সাথে জামিন করালেন। আমি খুব খুশি। আপনার যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে, তা হলো আপনি আমার মামলাটা খুব গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করেছেন। আমি অবশ্যই যেকোন আইনি সহযোগীতায় আমার নিকট আত্নীয় ও বন্ধুদের আপনার নিকট আসতে পরামর্শ দেব।
আইনজীবীর মন্তব্য
- আইন বহির্ভূতভাবে কাউকে আঘাত করা একটি ফৌজদারী অপরাধ। তবে প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সংবিধান ও বিচারনীতির পরিপন্থী। আমি এই নীতির আলোকে আসামীর জামিন করতে সক্ষম হয়েছি।
— এডভোকেট কাজিমুল ইসলাম, জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল। মোবাইল : 01760-848419
মামলার সারসংক্ষেপ
মামলার ধরণ দন্ডবিধির ৩০৭ সহ মারামারির মামলা
মক্কেলের নাম আসামী জুলহাস মিয়া
ঠিকানা থানা : মির্জাপুর, জেলা : টাঙ্গাইল
তারিখ ০৫/০২/২০২৫ ইং
error: Content is protected !!