প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের মামলা | হাসমত আলী বনাম সুমাইয়া খানম মেরী | জামিন না-মঞ্জুর

প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের মামলা | হাসমত আলী বনাম সুমাইয়া খানম মেরী | জামিন না-মঞ্জুর

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

  • বাদীর অভিযোগ : আমি পূর্বে আমার নিজ সাকিনে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল ইসলামীয়া বায়তুল উলুম মুশুরিয়া মাদ্রাসায় চাকুরী করিতাম এবং সেখানকার ছাত্র ও শিক্ষকদের জন্য রান্না করিতাম। উক্ত মাদ্রাসার শিক্ষক জনাব মোঃ মিরাজুল ইসলাম হুজুরের নিকট প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান হতে অনেক লোক চিকিৎসার জন্য আসতেন। অত্র মামলার আসামী সুমাইয়া খানম মেরীও তাহার চিকিৎসার জন্য মাঝে মাঝে-ই হুজুরের নিকট আসিতেন। এরুপ আসা যাওয়ার মাধ্যমে আসামীর সহিত আমার পরিচয় হয় এবং আসামী আমাকে তাহার ভাই বানায়। আসামীর মিষ্ট ব্যবহারে আমিও মুগ্ধ হইয়া তাহাকে বোনের ন্যায় দেখি। আসামীর সাথে আমার সু-সম্পর্ক থাকার সুবাদে আসামী আমাকে তাহার স্বত্ব দখলীয় ০৬ শতাংশ ভূমি বিক্রয়ের প্রস্তাব দিলে আমিও তাহাকে বিশ্বাস করিয়া উক্ত ভূমি ক্রয়ের জন্য সম্মত হই। অতঃপর আসামী উক্ত ০৬ শতাংশ ভূমি বাবদ ঘটনার ১৯ তারিখ, সময় ও স্থানে আমার মানিত সাক্ষী ও অন্যান্য সাক্ষীদের মোকাবেলায় ২৫,০০,০০০/- (পঁচিশ লক্ষ) টাকার মধ্যে ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা আমার নিকট হতে গ্রহন করেন এবং এই মর্মে ৩টি ১০০/- টাকার অর্থাৎ মোট ৩০০/- টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে লিখিত বায়না পত্র দলিল করে দেন। উল্লেখ থাকে যে, বাকী ১৩,০০,০০০/- (তের লক্ষ) টাকা গ্রহন করিয়া পরবর্তী ০১ (এক) মাসের মধ্যে আসামী উক্ত ভূমি আমাকে সাব রেজিস্ট্রি করিয়া দিবেন। আমি তাহাকে অত্যন্ত বিশ্বাস করিয়া তাহার কথা মানিয়া লই। অতঃপর বাকী ১৩,০০,০০০/- (তের লক্ষ) টাকা নিয়া ভূমি রেজিস্ট্রি করিয়া দিতে বলিলে আসামী দেয়-দিচ্ছি বলিয়া বার বার ঘুড়াইতে থাকে। আসামীর মোবাইলে কল করিলেও কল রিসিভ করে না। সর্বশেষ ঘটনার ২য় তারিখ সময় ও স্থানে আমার মানিত ও অন্যান্য সাক্ষীগনের মধ্যস্থতায় এক ঘরোয়া শালিসের আয়োজন করিয়া উক্ত ০৬ শতাংশ ভূমি রেজিষ্ট্রি করিয়া দিতে কিংবা প্রদানকৃত ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা ফেরত চাহিলে, আসামী আমাকে কোন ভূমি রেজিষ্ট্রি করিয়া দিবেন না ও আসামীর নিকট আমি কোন টাকা-পয়সা পাই না বলিয়া এক বাক্যে অস্বীকার করেন এবং আর কখনো উক্ত ভূমি রেজিস্ট্রি করিয়া দিতে বলিলে বা টাকা চাহিলে কিংবা টাকা চাহিয়া কোন মামলা মোকদ্দমা করিলে আমাকে খুন করিয়া লাশ শুম করিবে বলিয়া হুমকী দিয়া বৈঠক হইতে উঠিয়া চলিয়া যায়। আমি আগে যদি জানতাম আসামী আমাকে ভাই বলিয়া আমার সরল-বিশ্বাসের সুযোগ নিয়া এরুপ প্রতারণামূলক বিশ্বাসভঙ্গ করিয়া উক্ত ১২,০০,০০০/- (বার লক্ষ) টাকা আত্মসাৎ করিবেন তাহলে কম্মিন কালেও আসামীকে উক্ত টাকা দিতাম না। এমতবস্থায় আমি আসামীর দ্বারা প্রতারনার স্বীকার হইয়া অত্যন্ত মানবেতর জীবন-যাপন করিতেছি। তজ্জন্য অত্যন্ত নিরোপায় হইয়া আমার পরিবার-পরিজন ও নিকট আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পরামর্শ করিয়া অত্র মামলা দায়ের করিলাম। ঘটনার স্বাক্ষী আছে। স্বাক্ষীগন ঘটনা জানে ও বিচারাদালতে ঘটনা প্রমান করিবে।
  • আসামীর বক্তব্য : আসামী তাহার আইনজীবীর মাধ্যমে দরখাস্তমূলে নিজেকে নির্দোষ নারী দাবী করিয়া বিজ্ঞ আদালতে আত্মসমর্পণ পূর্বক জামিনের প্রার্থনা করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আদেশ

  • বিজ্ঞ আদালত আসামীর নামীয় আগের কিছু প্রতারণার মামলা ও আলামত দেখিয়া সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক আসামীর জামিন না-মঞ্জুর করেন।

মক্কেলের রিভিউ

  • ন্যায় বিচার পেলাম। আসামী আমার সমুদয় সঞ্চয় এর টাকা আত্মসাৎ করেছে। আমি উকিল সাহেবের আচরণ ও কাজে খুব খুশি। উকিল সাহেবের যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে, তা হলো তিনি মামলাটা খুব গুরুত্বের সাথে শুনানী করেছেন। আমি অবশ্যই যেকোন আইনি সহযোগীতায় আবার তার নিকট আসবো এবং নিকট আত্নীয় ও বন্ধুদেরও তার নিকট আসতে পরামর্শ দেব।

আইনজীবীর মন্তব্য

  • সরল বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করা মানুষগুলো খুব ভয়ঙ্কর। এদের জন্যই মানুষ এখন আর মানুষকে বিশ্বাস করতে চায় না। আমি কোর্টকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি যে, নারী বলেই কোন প্রতারক আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।
    এডভোকেট কাজিমুল ইসলাম, জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল। মোবাইল : 01760-848419

মামলার সারসংক্ষেপ

মামলার ধরণ প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের মামলা
মক্কেলের নাম বাদী হাসমত আলী
ঠিকানা থানা : দেলদুয়ার, জেলা : টাঙ্গাইল
তারিখ ১২/১২/২০২৪ ইং
ফলাফল জামিন না-মঞ্জুর
error: Content is protected !!