ধর্ষণ বা বলাৎকার এর মামলা | রাষ্ট্র বনাম অপু মিয়া | জামিন মঞ্জুর
ধর্ষণ বা বলাৎকার এর মামলা | রাষ্ট্র বনাম অপু মিয়া | জামিন মঞ্জুর
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- বাদীর অভিযোগ : আমি জেসমিন বেগম থানায় হাজির হইয়া বিবাদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, বিবাদী আমার পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা এবং আমার ছেলেকে মাঝে মধ্যে খেলা ধুলা করার কথা বলে আমার বাড়ী হতে নিয়া যায়। ইংরেজী ০৫/১০/২০২৫ তারিখ বিকাল অনুমান ০৪.০০ ঘটিকার সময় আমার ছেলে বিবাদীর বাড়ীর সামনে দিয়া আসা কালে বিবাদী আমার ছেলেকে দেখিতে পাইয়া আমার ছেলেকে মজা খাওয়ানোর কথা বলে জোর পূর্বক নৌকায় উঠাইয়া মির্জাপুর থানাধীন বহুরিয়া ইউনিয়নের আনাইলবাড়ী সাকিনস্থ আমার বসত বাড়ীর দক্ষিন-পশ্চিম পাশে চকে ধনচে ক্ষেতের ভিতরে নিয়া নৌকার মধ্যে আমার ছেলেকে মারধর করে জোর পূর্বক বলাৎকার করে। বিবাদী অপু মিয়া আমার ছেলেকে ঐদিন সন্ধ্যার সময় আমার বাড়ীর সামনে রেখে চলে যায়। আমার ছেলে উল্লেখিত ঘটনাটি আমাকে জানালে আমি উক্ত ঘটনাটি আমার পিতা মাতা কে অবহিত করি এবং বিবাদীর অভিবাবক কে জানালে কোন বিচার না করে আরও উক্ত বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিলে আমাকে দেখে নিবে মর্মে হুমকী প্রদর্শন করে। উল্লেখিত ঘটনাটি স্থানীয় লোকজনদের জানাইয়া, শুনাইয়া আমার ও আমার সন্তানের নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় আসিয়া অভিযোগ দিতে বিলম্ব হইল। অতএব, বিনীত প্রার্থনা উপরোক্ত বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে মর্জি হয়।
আইনি অবস্থান ও যুক্তি
- যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামী সম্পূর্ণ নির্দোষ নিয়োপরাধী ব্যক্তি বটে। অযথা হয়রানী পেরেষাণী করার অসৎ উদ্দেশ্যে অত্র মামলায় জড়িত করিয়াছে।
- যেহেতু এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে দরখাস্তকারী হাজতী আসামী কোন ঘটনাই ঘটায় নাই।
- যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামীর বিরুদ্ধে ২০০০ সালের (সংশোধনী ২০২৫) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার কোন উপাদান বিদ্যমান নাই।
- যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামী ঘটনাস্থল হইতে ধৃত হয় নাই।
- যেহেতু বাদীর এজাহারের স্বপক্ষে ভিকটিমের কোন মেডিক্যাল রিপোর্ট নাই।
- যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামী বিগত ১২/১০/২০২৫ ইং তারিখে পুলিশ কর্তৃক ধৃত হইয়া অদ্যবধি বিনা বিচারে জেল-কারাগারে আবদ্ধ আছেন।
- যেহেতু সংশ্লিষ্ট আইনের ১৮ ধারায় ১৫ দিনের মধ্যে এরুপ মামলার তদন্ত শেষ করতে বলা হলেও এখনো মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং বিজ্ঞ আদালত সংশ্লিষ্ট আইনের ১৯(৩) ধারায় জামিন দিতে পারেন।
- যেহেতু এজাহার ও এফআইআর এ দরখাস্তকারী হাজতী আসামীর বয়স ১৭ বছর এবং প্রকৃত পক্ষে তাহার বয়স ১৬ বছরেরও কম বটে।
- যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামী পুলিশের ভয়-ভীতি ও প্রলোভনের বশবর্তী হইয়া ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি প্রদান করিয়াছেন যাহা সাক্ষ্য আইনের ২৪ ধারায় অপ্রাসঙ্গিক।
- যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামীর বিরুদ্ধে অন্য আর কোন মামলা-মোকদ্দমা নাই।
আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আদেশ
- বিজ্ঞ আদালত আমার উপস্থাপিত সকল আইনগত বিশ্লেষণ ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক দরখাস্তকারী হাজতী আসামীর জামিন মঞ্জুর করেন।
মক্কেলের বাবার রিভিউ
- হাজতবাসের একটা সময় বলা চলে আমি আমার ছেলের জামিনের আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। বারবার মনে হতো, ছেলে অপরাধ স্বীকার করাতে বোধ হয় জামিন হবেই না। কিন্তু অবশেষে আমার ছেলেকে মুক্ত ভেবে আজ অনেক আনন্দিত। আইনজীবী হিসেবে আপনার সততা, পেশাদারিত্ব ও ব্যবহারে আমি ও আমার পরিবার আপনার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞ ও ঋণী।
আইনজীবীর মন্তব্য
- কোন মামলায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারাটা আমার জন্য বড় আনন্দের। আইনগতভাবে শুধুমাত্র ফৌঃ কাঃ বিধির ১৬৪ ধারায় আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আছে বলেই আসামীকে অপরাধী ভাবা উচিত না। কেননা স্বীকারোক্তি অন্যান্য সাক্ষ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থনযোগ্য হতে হবে তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই পুলিশ ভয়-ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করে যা আইন বহির্ভূত।
— এড. কাজিমুল ইসলাম, জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল। মোবাইল : 01760848419
মামলার সারসংক্ষেপ
মামলার ধরণ ২০০০ (সংশোধিত- ২০২৫) সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার ধর্ষণ বা বলাৎকার এর মামলা
মক্কেলের নাম আসামী অপু মিয়া
ঠিকানা থানা : মির্জাপুর, জেলা : টাঙ্গাইল
তারিখ ২৫/০৩/২০২৬ ইং
error: Content is protected !!