চুরির মামলা | রাষ্ট্র বনাম মোঃ আনোয়ার হোসেন | আসামী খালাস

চুরির মামলা | রাষ্ট্র বনাম মোঃ আনোয়ার হোসেন | আসামী খালাস

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

  • বাদীর অভিযোগ : আমি মোঃ লিমন হোসেন (৩৪), থানা-গোপালপুর, জেলা-টাঙ্গাইল থানায় আসিয়া এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করিতেছি যে, আমি একজন কৃষক। কৃষি কাজের পাশাপাশি আমি আমার বসতবাড়ির পূর্ব পাশে গোয়ালঘরে আমার বড় ভাই মোঃ লিটন (৪৫) এর ০১ (এক) টি গাভী গরু ও ০১ (এক) টি ষাঁড় এবং আমার ০২ (দুই) টি গাভী গরু, ০১ (এক) টি ষাঁড় গরু এবং গাভী গরুর বকনা বাছুর ০১ টি সহ মোট ০৪ টি গরু লালন পালন করিয়া আসিতেছি। প্রতিদিনের ন্যায় ইং ১০/০২/২০২৪ খ্রি. রাত অনুমান ১১:০০ ঘটিকার সময় আমাদের বসতবাড়ির উক্ত গোয়ালঘরে আমার এবং আমার ভাইয়ের গরু গুলো বাঁধিয়া রাখিয়া রাতের খাওয়া শেষে নিজ নিজ ঘরে একই তারিখ রাত অনুমান ১১.৩০ ঘটিকার সময় ঘুমাইতে যাই। পরবর্তীতে ইং ১১/০২/২০২৪ খ্রি. ভোর অনুমান ০৫:৩০ ঘটিকার সময় আমি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর হইতে বাহির হইলে গোয়ালঘরের দিকে তাকাইয়া দেখি যে, গোয়ালঘরের ভিতরে থাকা আমার এবং আমার ভাইয়ের মোট , ০৬ (ছয়) টি গরু হইতে আমার ০৩ টি গরু যথাক্রমে ০১ (এক) টি কালো রংয়ের গাভী গরু, যাহার সিং ছোট, মূল্য অনুমান ৯০,০০০/- টাকা, ০১ (এক) টি লাল রংয়ের গাভী গরু, যাহা পাঁচ মাসের গর্ভবর্তী/গাভিন, সিং বড়, মূল্য অনুমান ১,২০,০০০/-টাকা এবং ০১ (এক) টি হালকা লাল রংয়ের ষাঁড় গরু, মূল্য অনুমান ৮০,০০০/-টাকা নাই। আমি গোয়ালঘরের ভিতরে আমার বাধিয়া রাখা গরু গুলো দেখিতে না পাইয়া আমার বড় ভাই লিটন সহ পরিবারের অন্যান্য লোকজনকে ডাকা ডাকি করিয়া আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজা খুঁজি শুরু করি। কিন্তু আশপাশের সকল যায়গায় খোঁজা খুঁজি করিয়াও উল্লিখিত আমার মালিকানাধীন গরু ০৩ টি কোথাও পাওয়া যায় নাই। আমার এবং আমার বড় ভাই লিটন এর ধারণা ইং ১০/০২/২০২৪ খ্রি. রাত ১১.৩০ ঘটিকা হইতে ইং ১১/০২/২০২৪ খ্রি. ভোর ০৫:৩০ ঘটিকার মধ্যবর্তী যে কোন সময় অজ্ঞাতনামা চোর বা চোরেরা রাত্রী বেলা সংগোপনে গোয়াল ঘরে প্রবেশ করিয়া ৩টি গরু চুরি করিয়া নিয়া গেছে। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজা খুঁজি করিয়া কোথাও না পাইয়া চুরির বিষয় নিয়া স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও আমার আত্মীয় স্বজনের সহিত আলোচনা করিয়া থানায় আসিয়া অভিযোগ দায়ের করিতে বিলম্ব হইল।

আইনি অবস্থান ও যুক্তি 

  • যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামী সম্পূর্ণ নির্দোষ ব্যক্তি বটে। অযথা হয়রানী পেরেষানী করার অসৎ উদ্দেশ্যে অত্র মোকদ্দমায় জড়িত করিয়াছে।
  • যেহেতু এজাহার ও এফ.আই.আর এ দরখাস্তকারী আসামীর নাম নাই এবং উল্লেখিত ঘটনার তারিখ ও সময়ে হাজতী আসামী কোন ঘটনা ঘটায় নাই।
  • যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামীকে সন্দিগ্ধ আসামী হিসাবে অত্র মামলায় প্রেরণ করা হইয়াছে।
  • যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামীর নিকট হইতে কোন চোরাই মাল উদ্ধার হয় নাই।
  • যেহেতু দরখাস্তকারী হাজতী আসামী ধনবাড়ী বাসষ্ট্যান্ড-এ তার পিতার সহিত ওয়ার্কশপ এ দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবসা করিয়া আসিতেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আদেশ

  • বিজ্ঞ আদালত পুলিশের চার্জশিট, সাক্ষ্য প্রমান ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক আসামীর ‍নিয়োজিত বিজ্ঞ আইনজীবী আমার যুক্তি ও আইনগত উপস্থাপনে সন্তুষ্ট হয়ে আসামীকে বেকসুর খালাস প্রদান করেন।

মক্কেলের রিভিউ

  • খালাস পেলাম। আমি উকিল সাহেবের আচরণ ও কাজে খুব খুশি। উকিল সাহেবের যে বিষয়টি আমার সবচেয়ে ভাল লেগেছে, তা হলো তিনি মামলার তারিখে কখনো অতিরিক্ত ফি দাবি করেন নি। ফি চেয়ে কখনো চাপ দিতেন না। আমি অবশ্যই যেকোন আইনি সহযোগীতায় আবার তার নিকট আসবো এবং নিকট আত্নীয় ও বন্ধুদের তার নিকট আসতে পরামর্শ দেব।

আইনজীবীর মন্তব্য

  • চুরি একটি গুরুতর ফৌজদারী অপরাধ হলেও প্রমাণ ছাড়া কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা সংবিধান ও বিচারনীতির পরিপন্থী। মক্কেলের আস্থা ও আমার চেষ্টায় আসামীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।
    এডভোকেট কাজিমুল ইসলাম, জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল। মোবাইল : 01760-848419

মামলার সারসংক্ষেপ

মামলার ধরণ দন্ডবিধির ৩৮০ ধারায় গরু চুরির মামলা
মক্কেলের নাম আসামী মোঃ আনোয়ার হোসেন
ঠিকানা থানা : ধনবাড়ী, জেলা : টাঙ্গাইল
তারিখ ০৬/০৫/২০২৫ ইং
ফলাফল আসামী খালাস
error: Content is protected !!