পারিবারিক মামলা | কনিকা বেগম বনাম মোঃ রুবেল মিয়া | আপোষ-মিমাংসা

পারিবারিক মামলা | কনিকা বেগম বনাম মোঃ রুবেল মিয়া | আপোষ-মিমাংসা

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

  • বাদীর অভিযোগ : ১নং বাদীনির সহিত বিবাদীর বিগত ইং ২৪/১১/২০০৫ তারিখে ইসলামী শরিয়তের বিধান মতে ৯৯,৯৯৯/- (নিরানব্বই হাজার নয় শত নিরানব্বই) টাকা দেনমোহর ধার্য্যে রেজিঃ কাবিন মূলে বিবাহ হয়। বিবাহের সময় ১নং বাদীনির মাতা ১নং বাদীনিকে বিভিন্ন প্রকার প্রসাধনী সামগ্রী ও মূল্যবান কাপড় চোপড় দিয়া সাজাইয়া বিবাদীর সহিত বিবাহ দেয়। বিবাহের পর ১নং বাদীনি তাহার স্বামীর সহিত স্বামীর বসত বাড়িতে দাম্পত্ব স্বত্ব পালনসহ ঘর সংসার করিতে থাকাবস্থায় বিবাদীর ঔরষে ও ১নং বাদিনীর গর্ভে মোঃ সোহান মিয়া ও সাইম নামীয় ২ পুত্র এবং সুমিয়া আক্তার নামীয় ১ কন্যা তথা ২নং বাদিনী জন্মগ্রহন করিয়া জীবিত আছে। বিবাহের কিছুদিন পর হইতেই ১নং বাদীনির স্বামী বিদেশ যাওয়ার জন্য তাহার নিকট বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবী করিয়া মাঝে মধ্যেই ১নং বাদীনিকে শারীরিক ও মানষিক ভাবে অত্যাচার ও নির্যাতন করিতেন। এমতবস্থায় ১নং বাদিনী নিরুপায় হইয়া তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একটু সুখের আশায় তাহার সংসার টিকিয়ে রাখিবার জন্য স্বামীর অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করিয়া সংসার করিতে থাকে। অতঃপর বিগত ইং ০৮/০৮/২০১৭ তারিখে অর্থাৎ ঘটনার ১ম স্থান ও সময়ে ১নং বাদিনী, বিবাদী মোঃ রুবেল মিয়া-কে সকালের খাবার দিলে বিবাদী, ১নং বাদীনির মাতার নিকট হইতে যৌতুক বাবদ ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা বিদেশ যাওয়ার জন্য আনিয়া দিতে বলিলে বাদীনি উক্ত যৌতুকের টাকা আনিয়া দিতে অস্বীকার করায় বিবাদী, ১নং বাদীনিকে চর থাপ্পর মারিয়া, চুলের মুঠি ধরিয়া টানা হেঁচড়া করিয়া ২ পুত্রকে রাখিয়া ১ ও ২নং বাদিনীদের এক কাপড়ে বিবাদীর বাড়ি হইতে তাড়াইয়া দিয়া বলে যে, তুই যদি তোর মাতার নিকট হইতে ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা যৌতুক আনিয়া আমাকে দিতে না পারিস তাহলে আমি তোকে তালাক দিয়া অন্যত্র বহু টাকা যৌতুক লইয়া ২য় বিবাহ করিব। তখন হইতে ১নং বাদীনি যৌতুকের শিকার হইয়া তাহার পিতা-মাতার বাড়ীতে ২নং বাদিনীকে লইয়া ৪নং সাক্ষী চাচার সহযোগীতায় অসহায়ত্যের মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করিতেছেন। এমতবস্থায় ১নং বাদীনির চাচা বিগত ইং ২৮/০৬/২০২৪ তারিখে ঘটনার ২য় স্থান ও সময়ে তাহার বসতবাড়িতে কতক সাক্ষীগনের উপস্থিতিতে ঘরোয়া সালিসের আয়োজন করিলে এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করিয়া সাক্ষীগণের মধ্যস্থতায় বিবাদীকে যৌতুক বিহীন ১নং বাদীনিকে নিতে কিংবা বাদিনীদের পাওনা পরিশোধ করিতে অনুরোধ করিলে বিবাদী উক্ত ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা যৌতুক ছাড়া ১নং বাদীনিকে নিবেনা এবং বাদিনীগনকে দেনমোহন ও খোরপোষ বাবদ কোন প্রকার পাওনা টাকা পরিশোধ করিবে না বলিয়া সম্পূর্ণ ভাবে অস্বীকার করিয়া ১নং বাদীনির চাচাকে গালি গালাজ করিয়া সেখান হইতে চলিয়া যায়। ১ ও ২নং বাদী (সন্তান) দেনমোহর, অতীত ও ভবিষ্যৎ ভরণ-পোষণ বাবদ সর্বমোট ১৬,১৩,৭৯৯/- টাকা দাবি করে অত্র মোকদ্দমা দায়ের করেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আদেশ

  • যেহেতু বিবাদী তাহার ভুল স্বীকার করে বাদীর সহিত আপোষ-মিমাংসা করিয়া বাদীর পাওনা পরিশোধ করেন। তাই বিজ্ঞ আদালত সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা পূর্বক বাদীর জবানবন্দি গ্রহন করিয়া মোকদ্দমাটি আপোষ-মিমাংসা সূত্রে নিষ্পত্তি করেন।

মক্কেলের রিভিউ

  • আলহামদুলিল্লাহ দেনমোহরের টাকাও পেলাম আবার আমার সংসারও টিকলো। আমি উকিল সাহেবের কাছে ঋণি। কেননা আমি অসহায় ও দরিদ্র হওয়াতে উকিল সাহেবকে খরচের টাকাও ঠিকমত দিতে পারি নি, তবুও তিনি মামলাটি খুব গুরুত্বের সাথে পরিচালনা করেছেন এবং অবশেষে ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমি অবশ্যই যেকোন আইনি সহযোগীতায় আবার তার নিকট আসবো এবং নিকট আত্নীয় ও বন্ধুদের তার নিকট আসতে পরামর্শ দেব।

আইনজীবীর মন্তব্য

  • দেনমোহর মুসলিম নারীর অখন্ডনযোগ্য আইনত ও ধর্মীয় অধিকার। আমি এই নীতির আলোকে বাদীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছি।
    এডভোকেট কাজিমুল ইসলাম, জজ কোর্ট, টাঙ্গাইল। মোবাইল : 01760848419

মামলার সারসংক্ষেপ

মামলার ধরণ পারিবারিক ভরণ-পোষণ এর মামলা
মক্কেলের নাম বাদী মোছাঃ কনিকা বেগম
ঠিকানা থানা : মির্জাপুর, জেলা : টাঙ্গাইল
তারিখ ১২/১১/২০২৪ ইং
ফলাফল আপোষ-মিমাংসা
error: Content is protected !!